ব্যবসার প্রচার ও প্রসারের পদ্ধতি এবং বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল সমূহ

আপনাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা তাদের বিজনেস শুরুর পর কি ভাবে তারা তাদের বিজনেস প্রচার ও প্রসার করা যায় সেই সম্পর্কে জানতে চান । তাই আজকে প্রচলিত কিন্তু খুব এফেক্টিভ এমন ৭১ টি বিজনেস এর প্রচার ও প্রসার এর কৌশল সম্মূহ আপনাদের জন্য দেয়া হল। এখান থেকে কোনটা আপনাদের জন্য বেস্ট হবে আপনারা সেটা নির্বাচন করে সেটা নিয়ে সহজেই কাজ করতে পারবেন ।

১. আপনার প্রতিষ্ঠানের সামনে সাইনবোর্ড দিন। প্রতিদিন ১০০ লোকে দেখলে বছরে ৩৬,৫০০ লোকের চোখে পড়বে।

২. গলির মাথায়ও একটা ইন্ডিকেটর দিন, কাজে লাগবে।

৩. ব্যবসাটা যতি সিজনাল হয়, সিজনের শুরুতে এবং মাঝামাঝি সময়ে পোস্টারিং করুন।

৪. সার্ভিসটা যদি এলাকাভিত্তিক হয় কেবল টিভিতে বিজ্ঞাপন দিন।

৫. জাতীয় ব্যবসা হলে টিভিতে এড দিন। এডটা যেন মানসম্পন্ন হয়।

৬. শহরের সর্বত্র যদি সার্ভিস দিতে পারেন। লোকাল বাসে স্টিকার লাগান।

৭. ব্যবসার ভাব বাড়াতে চাইলে বিলবোর্ডে এড দিন।

৮. শুরুতে ব্যাপক প্রচার চাইলে ছোট ছোট ফেস্টুন লাগান। ডিজিটাল ব্যানারে।

৯. যে এলাকায় সার্ভিস দিচ্ছেন সে এ এলাকায় লিপলেট বিতরণ করুন।

১০. শুক্রবারে জুমার নামায শেষে মসজিদের সামনে প্রচারপত্র বিলি করুন, যদি শোভনীয় হয়।

১১. জরুরী হলে আপনার এলাকায় পত্রিকার হকারদের সাথে কন্টাক্ট করুন তারা কাগজের সাথে একটা করে ছোট বিজ্ঞাপন দিয়ে দেবে।

১২. আরো জরুরী প্রচার প্রয়োজন হলে সংক্ষেপে ছোট ছোট বাক্যে মাইকিং করুন।

১৩. ভিজিটিং কার্ড করুন। নিজের নামে, অফিসের নামে এবং সার্ভিসের নামে আলাদা আলাদা।

১৪. লেটারপ্যাড ছাপুন।

১৫. ছোট ছোট প্যাড করুন। বিভিন্ন নোট লেখার জন্য ব্যবহার করুন। কাউকে কোন নোট দিলে সাথে প্রচারটাও হবে।

১৬. অফিসের নামে খাম বানান। কোথাও চিঠি ডকুমেন্ট পাঠালে উপরে নামটা থাকলে তা প্রচার পাবে।

১৭. ক্যালেন্ডার ছাপুন। এক বছরের জন্য ঘরে ঘরে বিজ্ঞাপন চলে গেল।

১৮. নোটবুক ছেপে গিফট করুন। হাতে হাতে প্রচার হলো।

১৯. ডায়রী ছেপে উপহার দিন। জনে জনে প্রচার হলো।

২০. টেলিফোন ডাইরেক্টরী অফিসের নামে বানিয়ে ভিতরে বিজ্ঞাপন দিয়ে গিফট করুন। আপনার নাম অনেকদিন বিভিন্ন লোকের কাছে থেকে যাবে।

২১. ইয়ার প্লানার ছাপুন। টেবিলে রাখবে। লিখতে গেলেই আপনার পন্যের এড দেখবে।

২২. পেপার অয়েট উপহার দিন নাম লোগেসহ। আপনাকে তার মনে থাকবে।

২৩. বিজ্ঞাপনসহ মগ দিন, পানি খেতে গেলে চোখে পড়বে।

২৪. বিজ্ঞাপন সহ পেনস্ট্যান্ড দিন, কলম রাখতে গেলে চোখও রাখবে।

২৫. ফেইসবুকে এড দিন, নতুন প্রজন্ম আকৃষ্ট হবে।

২৬. বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এড দিন, যারা নেট ব্যবহার করে তারা দেখতে পাবে।

২৭. নতুন কোনো অফার এলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন, লোকে জানবে।

২৮. ম্যাগাজিন রঙীন বিজ্ঞাপন দিন, সমঝদার পাঠকের চোখে পড়বে।

২৯. বিভিন্ন স্থানে সরাসরি গিয়ে পন্যের কথা বলতে প্রতিনিধি নিয়োগ করুন।

৩০. চিঠি দিন, যাদের আপনি কাস্টমার হিসেবে চান, তাদের কাছে।

৩১. ইমেইল করুন, টার্গেট পিপলসদের মেইলে।

৩২. এসএমএস পাঠান বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার মানুষের কাছে।

৩৩. ফেইসবুকে পেইজখুলুন, সেখানে প্রচার করুন।

৩৪. নিজের একটা ওয়েবসাইট খুলন বিস্তারিত তুলে ধরুন।

৩৫. ইউটিউবে ভিডিও এড বানিয়ে তুলে ধরুন।

৩৬. বিভিন্ন মেলায় অংশ নিন।

৩৭. বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অফার দিন।

৩৮. ছাড় দিন কখনো কখনো

৩৯. একটি পন্যের সাথে কিছু একটা ফ্রি দিন।

৪০. পন্যের বা সেবার মান, কর্মীদের আচরণ, প্যাকিং রং এসব সুন্দর করুন।

৪১. সুন্দর একটা স্লোগান নিন। সেটা প্রচার করুন।

৪২. বিভিন্ন বড়ো বড়ো পার্টি ধরুন, সরাসরি কথা বলে।

৪৩. নিজে একটি পত্রিকা বাইর করুন, সেটা যে ব্যবসা করেন সেটার সাথে সম্পৃক্ত হলে ভালো। যেমন ইকমার্স বিষয়ক বা সবজি বেচলে সবজি বিষয়ক।

৪৪. ছাড় দিয়ে কুপন ছাড়–ন, যে বা যারা এ কুপন দিয়ে আসবে তারা বিশেষ ছাড় পাবে।

৪৫. বিজ্ঞাপনসহ শপিং ব্যাগ ছাপুন।

৪৬. নতুন ধরনের কোনো আকষর্ণীয় পাবলিক ইন্টারেস্টের জিনিস বিষয় হলে পত্রিকায় প্রেস রিলিজ পাঠান।

৪৭. বিভিন্ন ব্লগে আপনার ব্যবসা সংক্রান্ত লেখা পোস্ট করুন। পরোক্ষভাবে আপনার প্রচারণা অব্যাহত রাখুন।

৪৮. আপনার ই শপ হলেও আপনার একটা আউটলেট থাকতে পারে। আপনার মার্কেটে দোকান থাকলেও আপনার একটা ই কমার্স সাইট থাকতে পারে।

৪৯. আপনি আপনার শপেই বিভিন্ন অকেশানে ছাড় দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করতে পারেন।

৫০. আপনি আপনার কমাশিয়াল সার্ভিসের পাশাপাশি একটা ফ্রি সার্ভিস দিতে পারেন। যা আপনার ব্যবসার সহায়ক হবে। মনে করুন আপনি অনলাইনে ওষুধ বিক্রি করবেন। তাহলে কলসেন্টারের মাধ্যমে ফ্রি টেলিমেডিসিনের একটা অপশন রাখতে পারেন।

নতুন এবং আধুনিক কৌশল: ১. কর্পোরেট কন্টাক্ট: আপনি চেস্টা করুন কোনো বড়ো গ্রুপ কন্টাক্ট করতে। যেমন ধরুন আপনি ডাচবাংলা ব্যাংকের সাথে কন্টাক্ট করলেন যে তাদের কাস্টমারকে বা একাউন্ট হোল্ডারদের আপনি বিশেষ ছাড় দেবেন আবার তারা আপনার ক্লায়েন্টকে তোনো সুবিধা দিলো। আবার এমনও হতে পারে, ব্যাংকের সাথে কন্টাক্ট করলেন যে তাদের কাস্টমারকে বা একাউন্ট হোল্ডারদের আপনি ৭% কমিশন দেবেন। এর বিনিময়ে তাদের সব ব্রাঞ্চে আপনার একটা এড লাগানো থাকবে।

২. কুপন: আপনি যেকোনো ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দিন এমনভাবে যে বিজ্ঞাপনের একটি কুপন অংশ থাকবে তা যে কাস্টমার সাথে নিয়ে আসবেন তাকে আপনি একটা ছাড় দেবেন।

৩. টিকেট: বাস বা লঞ্চের টিকেট ছেপে দিন। শর্ত হলো টিকেটের একপাশে আপনার বিজ্ঞাপন থাকবে।

৪. প্রচারমূখি পন্য: এমন একটা পন্য চাড়–ন বাজারে যাতে ব্যবসা এবং বিজ্ঞাপন যেন দুটোই হয়। যেমন শপিং ব্যাগ, খাতা যাতে অন্তত একটা অংশে বিজ্ঞাপন দেয়া হবে।

৫. এসএমএস অফার: এসএমএসে অফার দিন। যেমন এই এসএমএস শো করলে আপনি ৫% ছাড় পাবেন। অথবা আপনার অর্ডার নিশ্চিত করতে ফিরতি এসএমএস দিন। আপনি বিশেষ ছাড় পাবেন।

৬. ওয়েব ইনফো: পরোক্ষ ওয়েব মার্কেটিং । যেমন ধরুন আপনি টুপির ব্যবসা করবেন। অনলাইনে। আপনার নিজস্ব অফিস শোরুম ওয়েবসাইট ফেইসবুক পেইজ আছে। সেখানে কিন্তু তারাই আসবে যারা আপনার পন্যটি কিনতে চান। কিন্তু আপনাকে বাইরের কাস্টমার আনার একটা জন্য এটা একটা উপায় হতে পারে টুপির উপর আপনি একটা তথ্যবহুল ওয়েবসাইট বানালেন। সেখানে টুপির ইতিহাস নানারকম টুপি থাকলো। তথ্যবহুল হবে। প্রচুর কনটেন্ট থাকবে। দেশে কোথায় কি টুপি পাওয়া যায়। সব তথ্য থাকলো। সাথে আপনার বিজ্ঞাপনটাও ভালো করে থাকলো। এতে করে একজন ভিজিটর টুপির জন্য আসলে আপনাকে পেয়ে যাবে।

৭. মেলায় টিকেট: বিভিন্ন মেলায়ও বিজ্ঞাপন শর্তে টিকেট দিতে পারেন।

৮. আপনি যে পন্য নিয়ে ব্যবসা করছেন সে সম্পর্কে ২/৪ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারী তৈরী করুন। সেটা ইউটিউবে ছেড়ে দিন। বিভিন্ন সিডেতে বিজ্ঞাপন দিন। পরোক্ষভাবে আপনার তথ্য দিন।

৯. এ বিষয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করুন। ব্লগে লিখুন। লেখাগুলো এসইও করুন। পরোক্ষভাবে প্রচারণার কাজ করুন।

১০. বিভিন্ন লোকদের সৌজন্যে দিন। যেমন একজন ব্যাংক ম্যানেজারকে একটি বডি স্প্রে সৌজন্যে দিলে ৫টি বিক্রয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১১. অবৈতনিক মার্কেটিং প্রতিনিধি নিয়োগ দিন কমিশনের ভিত্তিতে।

১২. বিভিন্ন আউটলেট ও শোরুমে ধারে পন্য রাখুন। বিক্রয়ের পর মূল্য সংগ্রহ করুন।

১৩. বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে সরাসরি এবং ভ্রাম্যমান বিজ্ঞাপনও দিতে পারেন।

১৪. ফেইসবুকে আপনার ব্যবসাসংক্রান্ত একটা এডভাইস পেইজ খুলুন। যারা জানতে চায় তাদেরকে জানান।

১৫. কমদামী কিছু পন্য ছাড়–ন যেগুলো আপনার পন্যকে মানুষের মাঝে নিয়ে যাবে আপনার নামটিসহ।

১৬. আপনার পন্্য রিলেটেড ব্যবসা নিয়ে একটি টিভি প্রোগ্রাম করুন।

১৭. পন্য ডেলিভারির পর কাস্টমারের সন্তুস্টি সাক্ষাৎকারের নিয়ে ৩০ সেকেন্ডর ২০ টি ভিডিও ছাড়–ন। ১৮. মাউসপ্যাড গিফটকরুন, বিজ্ঞাপন সংযুক্ত থাকবে।

১৯. বিভিন্ন পাবলিক প্রোগ্রামে কোনকিছু স্পন্সর করার মাধ্যমে প্রসার করুন।

২০. আপনি আপনার ব্যবসায়িক বিষয়ে প্রশিক্ষনের মাধমে তা ছড়িয়ে দিতে পারেন। যেমন ধরুন আপনি অনলাইনে স্কুল মানেজমেন্ট সফটওয়ার সেল করেন। আপনার মার্কেটিং এর জন্য আপনি সারাদেশের বিভিন্ন স্কুলের ১০০০ একাউন্টস অফিসারকে যদি ফ্রি অপারেটিং প্রশিক্ষণ দিতে পারেন তাহলে আপনার পন্য বিপনন অনেক অংশেই সহজ হয়ে যাবে।

২১. আপনি কো স্পন্সর হোন। নগদ টাকা দিয়ে নয় সার্ভিস দিয়ে। যেমন ধরুন আপনি ইলেট্রনিক গেজেট সেল করেন। সেক্ষেত্রে আপনি ক্লোজআপ ওয়ানের প্রতিযোগীদের সেরা ২০ জনকে একটি করে গেজেট দেবেন। শর্ত হলো প্রতিটি কাগজপত্রে গেজেট স্পন্সর বা কো স্পন্সর হিসেবে আপনার নাম লোগে স্থান পাবে। এতে আপনার ব্রান্ডিং হবে।

One Response to “ব্যবসার প্রচার ও প্রসারের পদ্ধতি এবং বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল সমূহ”

  1. I consider something really interesting about your web site so I bookmarked.

​Leave a Comment

Comment authors age:




Learning for new entrepreneurs from street hawkers.

Three steps to achieve something